“বাইকনামা… চার বন্ধু মিলে ঘুরে এলাম বাঁকুড়া মুকুটমনিপুর অযোধ্যা পাহাড়।

দুই হাজার কুড়ি সাল মানবজাতির জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। কারণটা সবারই জানা। কোভিড ১৯ নামক সূক্ষ্ম ভাইরাস। কোভিড ১৯ এর কারণে বাস ট্রেন সহ বিভিন্ন গণ পরিবহন কে এড়িয়ে  আমরা ৪ বন্ধু মিলে বেড়িয়ে পড়লাম একটু খোলা বাতাস নিতে।

বাঁকুড়া, মুকুটমনিপুর , অযোধ্যা পাহাড় । আমরা ৪ দিন ৩ রাতের সফরসূচি বানিয়ে ফেললাম । নভেম্বর মাসের ২৯ তারিখ সকালে আমি প্রসেনজিত দা অরূপ আর দীপক ৪ জন নিজ নিজ বাইকে যাত্রা শুরু করি । যথারীতি আমি  প্রতিবারের মতিই লেট ৪.৩০ এ মিনিটে যাত্র শুরু করব বলে ৪.৫০ এ বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি প্রসেনজিত দা দীপকের বাইকের স্যাডল ব্যাগ ঠিক করে বেধে দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে দেরী করে ফেলেছি। কথা না বাড়িয়ে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম । রাস্তায় অরূপ দাড়িয়ে ছিল। সেও চাকদাহ চৌমাথায় আমাদের সাথে যোগ দিল। কল্যাণী মোড়ে এসে আমরা বাঁদিকে টার্ন নিলাম। ঈশ্বর গুপ্ত সেতু পার করে  তারকেশ্বর, আরামবাগ হয়ে বিষ্ণুপুর যাব ।

আমি, অরূপ, পি কে ইন্ডিকেটর টা জালিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় দীপক হুস করে সোজা চলে গেল। অতএব ফোন করো। যথারীতি বেশ কয়েকবার ট্রাই করে তাকে পেলাম।  তাকে বলে বুঝিয়ে ফেরত আনতে ৪০ মিনিট কাবার। এদিকে পিকে আর অরূপ ফুসছে রাগে  ।

  অতঃপর  আসলে প্রায় ৭ টা নাগাদ আমরা আবার বাইক স্টার্ট দিলাম। টানটান জয়পুর ফরেস্ট ও হ্যাঁ রাস্তায় মুড়ি চপ দিয়ে ব্রেকফাস্ট । জয়পুর ফরেস্টের অন্যতম আকর্ষণ “চাতাল” । এটা আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি । বর্তমানে পরিত্যক্ত এক রানওয়ে। আর লালমাটির দুপাশে সবুজের গালিচা সেতো আছেই।

জয়পুর থেকে বিষ্ণুপুর মাত্র ৫ কিমি । বিষ্ণুপুর সম্পর্কে কি আর বলার !! সবাই জানেন, একসময় মল্ল রাজাদের রাজধানী ছিল ওটা। অসংখ্য মন্দির, টেরাকোটা, ডোকরা শিল্প এবং বালুচরী রয়েছে।

মন্দির পরিদর্শন শেষ করে দুপুরের খাওয়া শেষ করতে করতে প্রায় বেলা ৪ টে বেজে গেল। আমাদের পরবর্তী ডেস্টিনেশন মুকুটমণিপুর ড্যাম । আর হ্যাঁ আমরা কিন্তু ওখানে ক্যাম্পিং করেছিলাম । বিষ্ণুপুর থেকে  মুকুটমণিপুর প্রায় ৮০কিমি। রাস্তাটা বেশ সুন্দর।

Leave A Comment