গাঙচিল, সারস কিংবা অতিথি পাখি, কোনটা দেখতে চান ? নাকি সবগুলোই ? তাহলে ঘুরে আসুন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ।

শাহপরীর দ্বীপ। বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সর্বদক্ষিনের অংশ। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ গঠিত। এই দ্বীপের লোকসংখ্যা ৪০ হাজারের মতো। এদের প্রধান পেশা মাছধরা ও লবণ চাষ। দ্বীপে হাট-বাজার স্কুলে মাদ্রাসা মসজিদ সবিই আছে। আছে প্রকৃতির উদার নীল আকাশ। বর্তমান অনেক পর্যটক কোলাহল ঠেলে শাহপরীর দ্বীপে আসছে ভ্রমনের কিভন্নতা খুজতে।

Shahpori-Dwip

কি কি দেখবেন এখানেঃ

দেখতে পারেন শাহপরীর দ্বীপের তিনটি সৈকতে গিয়ে সমুদ্রের রুপ। নির্জন দ্বীপ গোলার চরে দেখতে পারেন জোসনার লুকোচুরি। এখান থেকে দেখা যায় মায়ানমারের মঙডু প্রদেশ। আরকানের পাহাড়গুলো আর জনমানবহীন গ্রামে বার্মিজ সেনাচৌকিগুলো। একসময় ওসব গ্রামে প্রাণপ্রবাহ থাকলেও এখন নেই। ওখানকার বাড়ীঘরগুলো জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। পুরুষদের হত্যা করা হয়েছে আর নারীদের বাগিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে। একটু সামনে থেকে দেখা যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এখানে আছে বিডিআর চৌকি ও ওয়াচ টাওয়ার।

জেলেপাড়ায় ছোট ছোট কুঁড়েঘরে জেলের জীবন যাপন আপনাকে যতটা না ভাবাবে। তারচেয়ে বেশী প্রেরণা জোগাবে বেঁচে থাকার এবং সাহস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবার। সাগরের এতকাছে থেকেই লোকগুলোর কোনো ভয় নেই, শংকা নেই, টেনশন নেই। কেমন সে জীবন ছোট কুড়েঘর একটু ধাক্কা দিলেই যেটা পড়ে যাবে অথচ সেখানে থেকে লোকগুলো প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে সাগরের সাথে। সেই যুদ্ধে বেশীরভাগ সময়ই এই জীর্ণশীর্ণ লোকগুলোরই জয় হয়। সাগর হারমানে তাদের কাছে। তাদের জীবিকার প্রয়োজনের কাছে।

জোয়ারের পানি যখন রাস্তায় এসে ধাক্কা দেয়। আর রাস্তার পাশে থাকা গাছগুলো আধাআধি ডুবে যায় নোনাপানিতে। এই দৃশ্য যতক্ষন দেখবেন ততক্ষন ভালো লাগবে।

জেলেপাড়ার পাশেই লবণক্ষেত। দিগন্তজোড়া লবণপ্রান্তর। দূরে বহুদূরে জলসীমার শেষপ্রান্তে শিল্পীর আঁকা তুলির আঁচড়ের মতো গ্রামগুলো যেন লেপ্টে আছে আকাশের গায়ে। তারউপর চক চক করছে সমুদ্রের রুপালী আকাশ। এখানে নুনক্ষেতের পাশেই ছোট ছোট আঁকাবাঁকা নদী যেগুলো দিয়ে জোয়ারের সময় সমুদ্র থেকে উঠে আসে নোনা জল। আর সেখানে ছোট ছোট মাছ খোঁজার জন্য দলে দলে ভিড় করছে গাঙচিল, সারস কিংবা অতিথি পাখিরা।

যাওয়ার পথে টেকনাফে দেখে যেতে পারেন আদিবাসী পাড়া, রোহিঙ্গা বস্তি, পাহাড়ী গুহা আর মাথিনের কুপ। চাইলে ট্রলারে চড়ে বা বোট ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকেও।

কিভাবে যাবেন শাহপরীর দ্বীপে?

কক্সবাজার থেকে বাস যায় টেকনাফ শহরে। সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। বর্ষকালে একটু হেরফের হয়। ভাড়া জনপ্রতি ১৪০ টাকা। আশি কিলোমিটার পথ সময় লাগে ২ থেকে আড়াই ঘন্টা। টেকনাফ থেকে শুকনো মৌসুমে সিএনজি ছাড়ে জনপ্রতি ১০০ টাকা। সময় লাগে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট। বর্ষাকালে অর্ধেকপথ গিয়ে নৌকা বা ট্রলার নিতে হয়। ভাড়া ২০/৩০ টাকা। শাহপরীর দ্বীপ জেটির সামনে সিএনজি থেকে নামবেন। গোলার চরে হেঁটেই যেতে পারবেন। চাইলে রিকশা বা সিএনজিও নিতে পারেন। বা নৌকাও।

কোথায় থাকবেন শাহপরীর দ্বীপেঃ

এখানে এলজিইডির একটি বাংলা রয়েছে। আগে থেকে যোগাযোগ করলে থাকতে পারবেন। রুমভাড়া ২০০ বা ৪০০ এর বেশী হবেনা। ওখানে গিয়েও উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে থাকতে পারবেন। তবে আগে থেকে যোগাযোগ না করলে কেয়ার টেকারকে পাবেন না। পরে সমস্যা হতে পারে। চাইলে টেকনাফ এসেও থাকতে পারেন। টেকনাফে বেশকিছু মাঝারিমানের হোটেল রয়েছে। রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষও। ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। আর সেন্টমার্টিন দ্বীপ চলে গেলেতো কথাই নেই। তবে নভেম্বর থেকে ফ্রেব্রুয়ারী এই সময় সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রচন্ড ভিড থাকে তাই সেখানে গেলে আগেই হোটেল ভাড়া করে নিতে ভুলবেন না। ভাড়া পড়বে ১০০০ থেকে ৫০০০ পর্যন্ত। এই দরদাম সবসময় উঠানাম করে।

কোথায় খাবেন শাহপরীর দ্বীপেঃ

এখানে একটি প্রধান বাজার আছে। তাছাড়া বাংলোর সামনেই রয়েছে রেস্টুরেন্ট এখানে সবকিছু পাবেন খাবার হিসেবে। সামুদ্রিক মাছ খেতে চাইলেও সমস্যা নেই। চাইলে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে হোটেলে দিলে তারা রান্না করে দেবে। খাবার খরচ জনপ্রতি ১৫০ টাকার বেশী হবেনা।

Leave A Comment