বাংলার ডিজনিল্যান্ড কুমিল্লার “ম্যাজিক প্যারাডাইস”

ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক এযেন বাংলাদেশের ডিজনিল্যান্ড। আপনি কি কখনো যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ডিজনিল্যান্ডে গিয়েছেন ? নিশ্চই না। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ডিজনিল্যান্ড ১৯৫৫ সালে প্রথমবারের মতো দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বিনোদনমূলক থিমপার্ক বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। এখনো যার সমক্ষ পার্ক কোন দেশে গড়ে উঠেনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের কুমিল্লার কোটবাড়িতে তৈরি হয়েছে একটি থিম পার্ক। যার নামকরণ করা হয়েছে “ম্যাজিক প্যারাডাইস”।

“ম্যাজিক প্যারাডাইস” পার্ক এর যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালের এপ্রিলে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে এর অবস্থান। পার্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, এটিই বাংলাদেশের বৃহত্তম ফ্যামিলি পার্ক। এটি এমন ভাডে ডিজাইন করা হয়েছে যেন পরিবারকে নিয়ে একসাথে বেড়ানো যায়। আর তাই বিনিয়োগ ব্যায়ও বেশি হয়েছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা। যাদুর গল্পের আদলে তৈরি করা হয়েছে ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের মূল ফটক। তিনটি সেগমেন্টে ভাগ করে গড়ে ওঠা পার্কটি বর্তমান মানুষের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।

কি কি আছে ম্যাজিক প্যারাডাইসেঃ সবুজ প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে একাকার পার্টিতে রয়েছে বিশাল এক নাগোরদোলা। যার উপর থেকে কুমিল্লার বিশাল একটা এলাকা দেখে নেওয়ার সুযোগ আছে। নাগারদোলার সাথেই রয়েছে ওয়ার সেগমেন্ট। জনপ্রতি ৪০০ টাকায় প্রবেশ করে সুইমিং পুলে গোসল সহ বিভিন্ন রাইড উপভোগ করতে পারেন। তবে বিভিন্ন রাইডে চড়তে গেলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে। কিন্তু ভালোলাগা এতোই বেশি যে এই বাড়তি টাকা তেমন বেশি মনে হবেনা।

পার্কটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় ডাইনোসর ওয়ার্ল্ডকে। পুরো পার্ক ঘুরে যখন আপনি ক্লান্ত তখন যখন পাহাড় বেয়ে ডাইনোসরের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবেন তখন চোখে পড়বে বিশাল আকারের অনেক গুলো ডাইনোসর। আপনার আগমন টের পেয়ে বিকট শব্দে গর্জন করছে। আগে থেকে সবধান না হলে ভয় পেতে বাধ্য। তবে বাচ্চারা এই ইভেন্টটা ভীষণ এনজয় করে।

 পাহাড়ের উপর সবুজ পরিবেশে আনুষাঙ্গিক সকল সুবিধা দিতে ম্যাজিক প্যারাডাইস কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করেছে। পার্কে আছে খাওয়া-দাওয়া সহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আছে নামাজের স্থান ও মহিলা পুরুষদের জন্য আলাদা স্যানিটেশন ব্যবস্থা। নির্দ্বিধায় পরিবারসহ একটা দিন কাটিয়ে আসতে পারেন এই পার্কে।

কিভাবে যাবেন ম্যাজিক প্যারাডাইসেঃ

ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে মাত্র ২ ঘন্টা সময় লাগে। বাসে করে অনায়াসেই চলে যেতে পারেন। ম্যাজিক প্যারাডাইস যাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ঢাকা থেকে কুমিল্লা টমছম ব্রিজ। কুমিল্লা ট্রান্সপোর্ট এবং এশিয়া ট্রান্সপোর্ট করে সরাসরি কুমিল্লা কোটবাড়ি বিশ্বরোড নেমে সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে যেতে পারেন। কুমিল্লা যাওয়ার বাস গুলো কমলাপুর থেকে ছেড়ে যায়।

এছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনে করে সহজেই কুমিল্লা আসতে পারেন চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ সোনার বাংলা ট্রেন কোন স্টেশনে থামবে তবে ট্রেনে আসলে আপনাকে নামতে হবে কুমিল্লা স্টেশনে। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে যেতে হবে ট্রেনে পৌঁছাতে বাসের চেয়ে দুইগুন বেশি সময় লাগে। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা আসতে পারেন অথবা যেকোনো ঢাকাগামী বাসে করে আসতে পারেন। আপনাকে কুমিল্লায় নেমে যেতে হবে আবার ঢাকাগামী ট্রেনের চেয়ে দ্রুত কুমিল্লায় পৌছাতে পারবেন।

খরচ কেমনঃ  ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। পার্কের প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২০০ টাকা এবং সাথে চা খাওয়ার সুবিধা পাবেন। ওয়াটার পার্কের প্রবেশ মূল্য ৪০০ টাকা। ভিতেরে বিভিন্ন রাইডে খরচ ১০০ থেকে থেকে ২০০ টাকা। একসাথে মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ আছে। আপনি চাইলে আলাদা আলাদাভাবে না টিকেট কিনে একসাথে প্যাকেজ টিকেট কিনতে পারেন। ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় পাওয়া যাবে প্যাকেজগুলো ।ছয় বছরের নিচে বাচ্চাদের কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া পিকনিক ও গ্রুপ মিলিয়ে দেখতে চাইলে আগে থেকে যোগাযোগ করতে হবে।

Leave A Comment