ট্রাভেল টিপস, ভ্রমনে বের হওয়ার পূর্বে যে সকল বিষয় মনে রাখা উচিত।

বছর ঘুরে আবার শীত চলে এসেছে। এই শীতে কোথায় ঘুরতে যাওয় যায় তা নিয়ে অনেকেই অনেক রকম ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন। কোথায় ভ্রমণ করবেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভ্রমণ প্রস্তুতি। ভ্রমণের আগে ভালো প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে ভ্রমণ কতটা আনন্দময় হবে। ভ্রমণ পূর্ববর্তী প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে ভ্রমণের সময় কি কি বিষয় আগে থেকে জানা দরকার তা নিয়েও ভাবতে হবে। এই শীতে আপনার ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করতে আপনার জন্য থাকছে শীতে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে টিপস ও কিছু কৌশল।

টিপসঃ

১. পরিকল্পনা করাঃ কোন কাজের সঠিক পরিকল্পনায় সেই কাজটি সঠিক হয়। পরিকল্পনা করে ঘরতে বের হলে বস কিছু প্রয়োজনীয় যা লাগে তা সঙ্গে নেওয়া হয় এবং অল্প সময়ে অনেক জায়গায় ঘুরতে পারা যায়। তাই ভ্রমনের পূর্ব পরিকল্পনা করা জরুরি।

২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ ভ্রমনে বের হওয়ার পূর্বে অন্যতম প্রধান কাজ হলো প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র গুছিয়ে নিতে হবে। যেমনঃ বাস,ট্রেন বা প্লেনের বুকিং টিকেট, ক্রয়কৃত টিকেট, হোটেল বুকিং পেপারস ইত্যাদি।

৩. হালকা খাবার ও পানিঃ  ভ্রমণে বের হওয়ার পূর্বে ভ্রমণকে মনমুগ্ধকর করার জন্য সঙ্গে অবশ্যই হালকা খাবার যেমনঃ স্নাক্স বিস্কুট সঙ্গে রাখা উচিত। মনে রাখতে হবে যে কোন প্রয়োজনে পানি পরিশোধন ট্যাবলেট সাথে রাখতে হবে সাথে। কারন সব জায়গায় পরিস্কার পানি নাও পেতে পারেন।

 ৪.মূল্যবান জিনিসপত্রঃ মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন সোনা, রুপার জিনিস ও মোবাইল, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ইত্যাদির যত্ন করে রাখতে হবে।

৫. ছোট শিশুর সঙ্গে থাকলে তার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি এবং পোশাক সঙ্গে রাখতে হবে।

৬. ওষুধ পত্রঃ  মাথা ব্যথার ওষুধ, জ্বরের ঔষধ, গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ সহ কমপক্ষে প্রয়োজন হতে পারে এমন ওষুধ সাথে রাখতে হবে।

৭. পোশাকঃ  শীতকালে ভ্রমণের জন্য শীতের পোশাক গ্রীষ্মকালে ভ্রমণের জন্য গ্রীষ্মকালীন পোশাক সঙ্গে রাখতে হবে।  অতিরিক্ত পোশাক সঙ্গে রাখা উচিত। যদি কোথাও ভ্রমণে পানিতে নামেন সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাপড় সহযোগীতা করবে।

৮. নিরাপত্তা নিশ্চিত করাঃ  যেখানে ঘুরতে যাবেন তার আশেপাশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পূর্বেই জেনে নেওয়া উচিত। ও আশেপাশের যাত্রী সহ অন্যান্য নিরাপত্তা অফিসের ফোন নম্বর সঙ্গে রাখা উচিত । কারন বিশেষ পয়োজনে সেগুলো কাজে লাগে।

৯. অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রঃ  অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে না নেয়া উচিত। এতে ঝামেলা বাড়ে ও ভ্রমণে বিরক্তির সৃষ্টি হয়।

১০. চেক লিস্ট তৈরি করাঃ ভ্রমনে বের হওয়ার পূর্বে অবশ্যই একটি চেক লিস্ট তৈরি করতে হবে।

যেমনঃ ১) কোথায় কোথায় বেড়াবেন,

২) সঙ্গে কি কি নিবেন,

৩) কোথায় কি করবেন ইত্যাদি।

১১. পলিথিনের ছোট ব্যাগঃ ভ্রমণের সময় সঙ্গে পলিথিন ব্যাগ নেয়া উচিত। যে কোন সময় দরকার হতে পারে।

১২. দরকারি জিনিসপত্রঃ  দরকারি জিনিসপত্র আলাদা রাখতে হবে যেন প্রয়োজনের সময় সহজেই বের করা যায় ও কাজে লাগানো যায়।

১৩. ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্রঃ  ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র যেমন ফোন, ক্যামেরা চার্জার, লাইট, পাওয়ার ব্যাংক ইত্যাদি সহজে পাওয়া যায় এমন ভাবে গুছিয়ে রাখতে হবে।

১৪. নোট লিখে রাখাঃ  যেকোনো বিষয়ে নোট বা কিছু লিখে রাখার জন্য নোটবুক অথবা কাগজ-কলম সঙ্গে রাখতে হবে।

১৫. কেনাকাটা সময়ঃ কেনাকাটা সময় খুব সতর্ক থাকতে হবে। দরকারী নয় এমন জিনিস কিনে টাকা নষ্ট করার থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে অযখা খরচ বাড়ে।

১৬. শাড়ীঃ যারা শাড়ী পড়েন তারা অবশ্যই সিন্থেটিক শাড়ি এবং সিল্কের শাড়ির সঙ্গে নিতে পারেন।

১৭. ছাতা ও রেইন কোর্টঃ  বর্ষাকালে ভ্রমণে বের হলে সঙ্গে অবশ্যই ছাতা ও রেইনকোট নিবেন।

১৮.  কাপড়ের যত্ন জিনিসঃ যত্ন সহকারে কাপড় গুছিয়ে রাখার জন্য ক্লিপ এক প্যাকেট এবং রাবার ব্যান্ড নিতে পারেন। এগুলো ব্যবহার করে কাপড় সহজেই এবং সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা যায়।

১৯.  কিছু তথ্যঃ  ভ্রমণে বের হওয়ার পূর্বে পারলে খাবার হোটেল, হাসপাতাল, পুলিশ ও সেলুনের অবস্থান জেনে নিন। এতে পরে অনেক সময় বাচে এবং ভ্রমন সুখকর হয়।

২০.  প্রসাধনী সামগ্রীঃ  আপনি যদি নিয়মিত কোন প্রসাধনী ব্যাবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই তা সঙ্গে রাখুন। কিছু বাড়তি পোশাক পরেন তার কয়েকটি যেমনঃ ট্রাউজার ও কয়েকটি টি-শার্ট অবশ্যই নিবেন যাতে নদীতে গোসল বা অন্য কোন কারনে সেগুলো পরতে পারেন।

২১. বাড়তি টাকাঃ যা খরচ  করবেন বলে বাজেট করেছেন তার থেকে বাড়তি টাকা একসঙ্গে অবশ্যই নিবেন।  বাজেটের থেকে বেশি লাগতেই পারে তা অবশ্য এটিএম কার্ড থাকলে চলবে। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি পর্যটন স্পটেই এটিএম বুথ পাওয়া যায়। সেখান থেকে টাকা উঠানো যায়। সব টাকা নিজের কাছে না রেখে পরিবারের বড়দের কাছে কিছু টাকা রাখতে পারেন।

২২.  উপযোগী ও আদর্শ পোশাকঃ  আপনি কি পোশাক পরতে ভালোবাসেন এবং কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে পোশাক নির্বাচন করবেন।

২৩. এক্সেসরিজঃ  অতিরিক্ত ক্যামেরা,  ক্যামেরার মেমোরি কার্ড, ও চার্জার নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

২৪. জুতা কেস ও স্লিপারঃ  ঘুরে বেড়ানোর জন্য সবচেয়ে ভালো জুতা এবং কেডস। শীতের দিন হোটেলে খালি পায়ে হাটলে ঠান্ডা লাগতে পারে তাই স্লিপার সাথে নিতে পারেন।

২৫.স্থান ও সময় জ্ঞান নিয়ে প্রস্তুতিঃ যে স্থানে ভ্রমণের আবহাওয়া, প্রাকৃতিক অবস্থা, খাবার ও খাবারের দাম, লোকজন, হোটেল রিসোর্ট ও যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে । নতুবা সমস্যায় পড়তে হবে।

২৬. জঙ্গলে ঘুরতে গেলেঃ  জঙ্গলে ঘুরতে গেলে সঙ্গে এক বোতল কার্বলিক এসিড নিতে পারেন। সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষায় সাহায্য করবে।

২৭. পাহাড়ে ঘুরতে গেলেঃ  পাহাড়ি জায়গায় বেড়াতে গেলে গরম জামা সাথে নিতে ভুলবেন না। পাহাড়ে উঠতে গেলে পায়ে অবশ্ব্যই জুতা পরে উঠবেন এবং মোজা ব্যবহার করবেন। তা না হলে পায়ে ফোসকা পড়ে যেতে পারে।

২৮.  বিখ্যাত জিনিস সাথে আনতে একদমই ভুলবেন নাঃ  যখন যেখানে ভ্রমণে যাবেন অবশ্যই সেখানে বিখ্যাত কিছু পাবেন অবশ্যই তা আনা উচিত এবং খেয়ে টেস্ট নেওয়া উচিত। যেমনঃ  বগুড়ার দই, নাটোরের কাঁচাগোল্লা, নারকেল সুপারি, সিলেটের চা, ঢাকার বাকড়খানি, সুন্দরবনের মধু, চাঁদপুরের ইলিশ এবং কক্সবাজার সেন্টমার্টিন শুটকি ইত্যাদি।

ঘুরতে বের হয়ে ভ্রমণকারীর যা যা করণীয়ঃ

১) সমুদ্র ভ্রমণের আগে সমুদ্র সৈকতের উঁচু নিচু এলাকা সম্পর্কে সতর্ক হোন। প্রয়োজনে ভাটার সময় গিয়ে উঁচু নিচু এলাকা দেখে আসুন। কেননা জোয়ারের পানি আসলে অনেক মানুষ তা বুঝতে পারেনা। ফলে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সৈকত এ লাইফ স্থানীয়দের পরামর্শ মেনে চলুন।

২) বর্তমানে কক্সবাজারের ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে প্রশাসনসহ স্থানীয় জনগণ খুবই আন্তরীক। কারণ এই পর্যটকদের  থেকেই আয় করা টাকা দিয়ে বেশিরভাগ মানুষের জীবনযাপন করতে হয় সুতরাং যে কোন ধরনের সমস্যা হলে আপনি সকলের কাছ থেকে সহযোগিতা পাবেন।

সবাইকে ধন্যবাদ